Spring Festival Poem in Bengali(বসন্ত উৎসব)2020
আমার বসন্ত
হঠাৎ সেদিন এসেছিল বসন্ত ৷
ঝরো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি অনন্ত ৷৷
অবাক চোখের দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকিয়ে ৷
অনেক না বোঝা কথা মনের কোনে উকি দিয়ে ৷৷
ঝোরো বাতাস কানে কানে এসে বলে সর্বক্ষন ৷
তুমি আমার সকল কষ্টে,সকল দুঃখে আজীবন ৷৷
অবুঝ মন বোঝেনি অসময়ের ঝোরো হাওয়া ৷
সীমাহীন ভালোবাসার মিথ্যে সুখ ভেবে নেওয়া ৷৷
সবই রয়ে যায় ক্ষণকালের ত্বরে ৷
আমার এ ক্ষুদ্র হৃদয় শুধুই মরনের পরে ৷৷
তোমার যৌবন অভিলাষী মন আমাকে চেয়েছিল ৷
আমার অবচেতন মন হঠাৎ অজান্তেই ভেঙেছিল ৷৷
তুমি আমার প্রথম বসন্ত,প্রথম দক্ষিনা বাতাস ৷
শিমূল,পলাশ,কৃষ্ণচূড়ায় তোমার বাস ৷৷
কোথায় আছো ,কেমন আছো.. নিঃশব্দে লুকিয়ে তুমি ৷
ফিরে আসবে জানি আজও অপেক্ষায় আমি ৷৷
এবারেও বসন্ত তুমি এলে আম্রমুকুলে,রক্ত
িম লালে শিমুলে,পলাশে ৷
কৃষ্ণচূড়ার শোভায় কোকিলের কুহু,কুহু কলরব আকাশে বাতাসে ৷৷
বসন্ত তুমি এসেছো নতুনের আনন্দের রং মাখিয়ে ৷
আবারও আমাকে সাজিয়েছি তোমার প্রেমের রং লাগিয়ে ৷৷
মধু-বসন্ত
বসন্ত এলো ঐ আকাশে বাতাসে
পিয়া মন ওড়ে তাই পাতাঝরা বাতাসে
শিমূল আর পলাশের রঙে মন রাঙিয়ে
মন যেন চলে যায় শত বাধা পেরিয়ে
সেই বাধা ঠেলে ফেলে ঘরে ফেরা বড়ো দায়
বসন্ত এলো তাই ফাগুনের গান গাই।
বসন্ত প্রেম আনে মনে রঙ লাগিয়ে
আগুন রঙের হোলি মন দেয় সাজিয়ে।
আবীরের রঙে সাজাবে বলে সখীদেরে সাথে করে
পিয়ার লাগি মন যে উতলা, বিরহ-জ্বালায় মরে
ওরে ফাগুন আগুন পাগল করা, কুহুকাকলীতে ভরা
পাতাঝরা বন করে হাহাকার, পাগলা হাওয়ার ধারা।
বসন্তের-দূত কোকিলা বলে ,বসন্ত এলো ঘরে
একেলা বধূটি বসে ভাবে তার প্রেমী গেছে বহুদূরে
এই মধুমাস আগুন সমান দগ্ধ করে যে হিয়া
ফাগুন-হাওয়া পায়ে পড়ি, ভাই, এনে দাও মোর পিয়া।
বিরহের সুরে বাঁশি বাজে যেন,একা কোথা আনমনে
ওগো বসন্ত, চির-বসন্ত, সুখ নাই যে গো মনে।
বসন্ত-দিনের উৎসবে মাতে আবালবৃদ্ধবনিতা
শিবরাত্রি, গাজন-মেলা, আরও কতো কি যে বলি তা
ওগো ঋতুরাজ বসন্ত তুমি রাঙ্গাও রঙহীন জনে
সবার মুখেই হাসি ফোটে যেন তোমার আলিঙ্গনে
রক্তহোলি বন্ধ করে, রঙের আবীর ছড়াও
ঘুণধরা এই পৃথিবীটাকে বাসন্তী-রঙে রাঙ্গাও।
শহুরে বসন্ত
শহর জুড়ে বসন্ত আসে ধোঁয়া কুয়াশার সাথে
ফুলফুটেছে শিমুলপলাশে রক্ত আবির মেখে
বাস ডিপোটার পাশে ।
সবাই ছুটছে সবাই ব্যস্ত করছে আনাগোনা
পলাশ শিমুলের রং কেউ দেখেও দেখেনা ।
সন্ধ্যে আকাশে হাসে ঝলমলে চাঁদ
ইলেক্ট্রিকের তারজঙ্গল ভেদ করে
একান্তে কারুর দেখার নেই অবসর
বহুতল আবাসনে মানুষ স্বেচ্ছাবন্দী পরদানাসীন ঘরে ,
যেখানে প্রেমের নেই কোনো কদর ।
বসন্ত আসে শহরে জুড়ে হোটেলে বারে
অর্থ ও লালসার উদ্দাম উল্লাসে
জ্যাজ মিউজিকে ঝরাপাতার মতো খসে পড়ে নর্তকীর বসন
সেথা বসন্ত কোকিলেরা দেয়না দর্শন ।
কাব্যপাগল কিছু মানুষ মাতে বসন্ত উত্সবে
নাচেগানে কাব্য ছন্দে নন্দিত প্রাণ বিভোর
বাসন্তী প্রেমে সিঞ্চিত সৌরভে ।
নগরবাসী এখানে বড় নিষ্ঠুর ,বিবেকবিহীন
কাউকে সে ভালোবাসেনা
আপন স্বার্থ নিয়ে সদা সচেতন ,সদা বিব্রত
এ শহরে বসন্ত তাই এসেও আসেনা ।
মধু বসন্তে
বসন্তে কোনও সন্ধ্যা চাই না প্রিয়
বসন্তে দিও একটা ভর-দুপুর
হেঁটে যাবো দু'জনে হাতে হাত রেখে
দূর থেকে বহুদূর,,,,,,,,
বসন্তে কোনো রক্ত গোলাপ চাই না
সে তো সারা বছরই ফোঁটে!
বসন্তে চাই একগুচ্ছ রঙিন পলাশ
গুঁজে নেবো খোঁপায়
যদি জোটে!
বসন্তে কোনো মিষ্টি মুখ চাই না
বসন্তে এনো একমুঠো পাকা কুল
বিকৃত মুখে, পরম সুখে
খেয়ে নেবো বিলকুল!
বসন্তে কোনও সঙ্গীত চাই না
শুনব কোকিলের কুহুতান একসাথে
করব নকল, রাগিয়ে দেবো ওদের
ভালো লাগে মিছিমিছি রাগাতে!
দুপুরের ধূলি মাখা পথে হেঁটে যাবো দু'জনে
ধূলো উড়িয়ে
মাঝে -মাঝে থেমে যাবো
আমের মঞ্জুরির গন্ধ নেবো
হৃদয় ভরিয়ে।
বসন্তাকাব্য
মোর বসন্ত বাঁধা আছে বেণীর বন্ধনে
কষ্ট শুধু মশলা দিয়ে কলিজা
রন্ধনে
মলয় পবন আসার পথে বিন্ধ্য বাঁধা দেখি
জয়বাংলা আঁখিদ্বয়ে ফাগুন আগুন মেকি
হিয়ার মাঝেই লুকিয়ে রাখি ফাগুন চিরন্তনী
তোমরা মাখো বসন্ত ফাগ
শান্তিনিকেতনী
শৈলেন দাস
গোপালপুর, কোচবিহার,
বসন্ত প্রলেপ
আবির মাখা আস্তরাগ
মুছিয়ে দিক মনের দাগ
লাল পলাশের রং গুণে
বসন্তের এই মধুর দিনে
সাত রঙেতে উঠুক ভরে
জীবন সারা বছর ধরে ||
শ্রেয়সী চ্যাটার্জি
শিলিগুড়ি
পিছুটান
ফাগুনের এলোমেলো হাওয়া এসেছে তবে মুঠো ভরে রঙ আনেনি
সেও এখন বড্ড বেশি অতীত প্রিয় ....
নীলচে পাহাড়ের বুক জুড়ে জলভরা মেঘ শুয়ে আছে।
কয়েক যুগের আগের ছেড়ে যাওয়া সঙ্গিনীকে বারবার ফিরে পেতে চেয়ে অস্থির হয়ে ওঠে ,
বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে ব্যাধি বাধিয়ে জ্বরের উত্তাপে গা সেঁকে আর তার নামে প্রলাপ বকে ..... বোকা প্রেমিক বিষাক্ত অসুখে সুখের পরশ খোঁজে।।
সোমা দে
আলিপুরদুয়ার
নেচে ওঠে মন
কে যে এল
ধরা পরে
খুঁজে সারা হই,
সারা বন
ফুলে ফুলে
ভরে ওঠে ওই !
অলি সব
দল বেঁধৈ
আসে আর যায়,
সারা দিন
গুন গুন
কত গান গায় ।
পাখিদের
কলরবে
মুখরিত বন,
ভাবি কার
আগমনে
নেচে ওঠে মন ।
ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়
(বীরভূম)
বসন্তের ছোঁয়া
বসন্ত কোকিল ডাকে কুহু কুহু
আবির রাঙা মনে ছান্দিক নৃত্য
ময়ূরী পেখম মেলে ।
শৈত্য ছন্দ পতনে মত্ত বসন্ত
নবরূপে সাজে সংসার
আঁট সাঁট খোলস ছেড়ে ।
মিলন সুবাস আশে
জরতার সলিল সমাধি
অন্তরে কুহু কুহু রব ।
শংকর দাস
নদীর তীরে চায়ের বাগান মাঝে মন্দির ,
সরল সবুজ গ্রাম ভক্তিতে বড়ই বিভোর ।
শিমুল -পলাশ লাল আজ প্রকৃতি অপরূপ,
ফাগের প্রেম থেকে কেন থাকো বিরূপ ।
বসন্তের গীত আজ হৃদয় গুনগুন ,
কুকিলের কুহুতান বলে এসেছে ফাগুন ।
হৃদয়ের অন্তরালে অতিতের অনেক কথা
আজোও ভাসে ছবি মনে বড় ব্যথা।
শান্ত মনে নীরব থাকি বোবার আকুতি
বোঝেনা কেউ আমার কথা বিরল নিয়তি ।
আমার বসন্ত
সেদিন লাল রঙা আবীরটা মাথায় ছুঁইয়ে বলেছিলি,
বলেছিলি, ---ধরে নে এটা সিঁদুর।
আমি তোর গালে গোলাপি আবীরটা লাগিয়ে বলেছিলাম,
বলেছিলাম,---এটা গোলাপের পাপড়ি।
স্মিত হেসে সবুজ আবীর দিয়ে রাঙিয়ে দিলি আমার গাল।
বললি,---এটা কিন্তু তারুণ্যের প্রতীক।
এভাবেই যেন সবুজ বনানীর মাঝে আমরা দিন কাটাই।
অঞ্জলি ভরে হলুদ আবীর নিয়ে ফুঁ দিয়ে ছড়িয়ে দিলি আমার মুখের ওপর।
বললি,---এটা রওনক, মানে উজ্জ্বলতার ছোঁয়া।
শুনে আমার মুখ চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।
ফাগুন বসন্তের সেই দিনটা ছিল ---
বড় অনুরাগের, বড় ভালোলাগার। আমাদের জীবনের রঙিন যাপনের দিন।
হঠাৎ এলোমেলো হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো আবীর গুলোকে।
রঙের ছোঁয়া রইলো শরীরে, তবু শূন্য হলো হৃদয়।
কর্মসূত্রে হারিয়ে গেলি ভিনদেশে।
পড়ে রইলাম একাকী আমার গাঁয়ে।
আবার ফাগুন এলো, কিন্তু এলোনা আমার বসন্ত।
ও দেশে কি খুঁজে পেলি কোন সঙ্গীকে,
যার চোখে হলুদের ঔজ্জ্বল্য?
মাথায় কি তার দিলি লাল আবীরের ছোঁয়া?
তুই হ্যাঁ বললেও,আমি শুনবোনা,
আমি মানবোনা,আমি বুঝবোনা।
শুধু বুঝি, তুই,হ্যাঁ তুই শুধুই আমার।
আমার পলাশ, আমার শিমূল,
আমার হাতের মুঠোয় ধরা
তুই আমার গোলাপ।।
বসন্তে ঠোঁটের স্পর্শ !
বসন্তে ঠোঁটের স্পর্শ
মনে আনন্দ আর হর্ষ
শরীরে জাগায় শিহরণ
বসন্তে ঠোঁটের উষ্ণতা
শরীরে পাঠায় বার্তা
এই বুঝি হবে মরণ
তবে এই মরণ
সেই মরণ নয়
যেটা একবারেই
সব হয়ে যায় শেষ
এই মরণ অন্য মরণ
হৃদয় করে আস্ফালন
পিট্যুইটারি নির্দেশ দেয়
এই আছি বেশ !!!
হোলি এলো রে
এলো রে এলো রে হোলি ,
ফাগুন জ্যোস্না রাতে ।
ঘরে ঘরে ব্রত করে
রাধা কৃষ্ণের পরে ।
আবালবৃদ্ধবনিতা আনন্দে মেতে ওঠে
রঙে ও আবিরে ।
নাক কান ঠোঁটে গালে সাজে যে
রঙে রঙে ।
রঙের নলেতেই বধূ স্নান সারে
পাড়াতে ।
নাচানাচি ঠেলাঠেলি সুরে লয়ে
রবির গানে গানে ।
কেঁপে কেঁপে ওঠে বুক
এলো বুঝি হৃদয়ে ।
গগনে গগনে আবিরের বরষায়
ধেয়ে আসে লহরে ।
নেচে নেচে আসে রাধা
বাঁশির সুরের টানে ।।
গোপন পরাগ
সময়ের রং বদলে
বসন্ত অভিমানী হয়,
শিমূল পলাশের
গোপন পরাগে।
দুরন্ত তিতাস ছোটে...
চৈত্র দুপুরের আঙিনায়।
কালের ঘূর্ণিপাকে
বসন্ত জলছবি হয়,
ভরা কোটালের
অলৌকিক চান্দ্রমাসে!
নির্বাক মুহূর্ত ডুবে যায়
গহীন জলের স্রোতে...।
সময়ের ছোঁয়া,
সময় হালকা ছুঁয়ে গেল আকাশ
রং ছড়ালো আজ ফাল্গুনী বাতাস ।
লাল নীল হলদে শাড়ির কত ছবি
অধিকারের দাবি নিয়ে আছে সবই।
মোড়ে জড়ো করে কত আলোড়ন
ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে ছুঁয়ে যায় মন।
মুগ্ধ বসন্ত এঁকে বেঁকে হয় নদী
সময় সারণি তার দরজা খুলতো যদি।
চোখের দৃষ্টি পুরো ঝাক্কাস রঙিন
দিশেহারা প্রজাপতি গুলো বেশ সঙ্গিন।
বদ্ধ জলের থৈ থৈ শব্দ শোনে
গাছেদের শাসনে ওরা কাটাকুটি বোনে।
তবুও বসন্ত মাখে শিমুল পলাশ ওরা
পায়ে পায়ে একসাথে দিতে চায় ধরা।
রং মাখা কাগজ গুলো হাওয়ায় ভাসে
হালে বেহিসেবী হয়ে খুব ভালোবাসে।
কবিতা
ফুটুক কবিতার ফুল,
ঝরুক কবিতার ঝরনা।
কবিতার ছন্দে মাতুক ধরা;
মৃত্যূ প্রাণে উঠুক দোলা,
কবিতায় ফুটুক কৃষ্ণচূড়া
কবিতারা আজ মাতোয়ারা।
ফুটুক পলাশ লেবু শিমুল,
কবিতায় ফুটুক আম্রমুকুল।
সুবাস ছড়াক হাওয়ায় হাওয়ায়,
কবিতা ঝরুক শিশির কণায়।
ভেসে যাক দূর দূরান্তে-
কলতানে ভরুক বসন্ত প্রভাতে।
কবিতার গানে ছুটে আসুক,
রঙিন প্রজাপতি বাউল ভ্রমরা।
কবিতায় বসুক বসন্ত মেলা,
বাঁশের বনে যেমন দিচ্ছে দোলা।
ঝরে পড়া পল্লব উড়ে,
শান্ত তপ্ত মোহীনি ঝড়ে।
ঋতুরাজ এসেছে বসন্ত,
বাউল আজি গাইতে মত্ত।
হৃদয়টা আজ হয় শান্ত,
বাউলের কন্ঠে মাতোয়ারা দিগন্ত।
কবিতার কলতানে মুখরিত,
আজি নব মনোহর বসন্ত।
কবিতায় বাজুক রাখালের বাঁশি,
কবিতা ফুটুক শিশুর মুখে হাসি।
"বসন্তের সকাল"
ভোরের বেলা শিমূল তলায়,
ছড়িয়ে ফুলের মেলা,
টুপুর টুপুর পড়ছে নিচে,
দেখছি সকাল বেলা।
রঙের ধারায় বসন্ত এলো,
দোলন পলাশ বনে,
শিমূল তুলোয় ভরায় আকাশ,
সবার খুশি মনে।
চারদিকেতে রং থই থই
নানা ফুলের মাঝে,
গান শোনাতে ভ্রমর এলো,
মন নেই তাই কাজে।
হলি আসে ফাল্গুনেতে
তাক ধুমা ধুম বাজে,
হলির দিনের আনন্দেতে
যে যার মত সাজে।
অঞ্জনা দেব রায়
মুহূর্তের প্রতিদিন
নদীর উচ্ছ্বাসিত জলরাশিতে
বসন্তের আগমন ,
শিমুল , রাধাচূড়া , কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়
মুহূর্তের প্রতিদিন ।
কোকিলের কুহু কুহু ডাকে
লাল পলাশ ও সবুজ বনানীর হাত
ধরে বসন্ত দ্বারে তোমার শুভ্রতায় ,
কত না বলা কথা বলবো আজি
রাঙ্গিয়ে দিয়ে মন
চির বসন্তের স্নিগ্ধ ভালোবাসায় ।
কৃষ্ণদাস সরকার
বসন্ত এসেছে দুয়ারে
কোকিলের কুহু ধ্বনি
বসন্তের আগমনী
শিমুলের ঝরা পাতা
মরমরে পথ খানি । ।
নানা রঙে ভেসে বেড়ায়
আবিরের গুঁড়ো ওই
ফাগুনের গন্ধ ভরে
পলাশের বনে ওই । ।
ফুলে ফুলে ভরে ওঠে
বকুলের বন
উৎসবে(দোল) ভরে ওঠে
সবারই মন । ।
মাঠ ভরা আউশের
সবুজের মেলা
বসন্ত এসেছে দুয়ারে আজই —এবেলা । ।
সুশোভন আদক
কোলকাতা
*তোর বসন্ত*
গত বছর আগত বসন্তে ' তুই' ছিলি অন্তর্যামী,
এ বছরের স্বাগত বসন্তে 'তুমি' প্রাক্তনী!
সে দিন যে চাঁদ টা উঠেছিল
সেও পালকির পর্দা সরিয়ে
রজনীগন্ধা মালা গলে
একবারই চেয়েছিলো,
আর বলে উঠেছিল..
অস্ত যাওয়া সূর্য দেখিয়ে কাকে ভয় দেখাও....!
একতরফা কোনো এক ফালগুনী মরশুমে তুমি বসন্ত হয়ে ফিরো,
যেখানে ধারাবাহিক ভাবে কোকিল ডাকবে না- পাতা ঝরবে না - মকুল দেখা যাবে না- বকুলের গন্ধ সারা দেবে না - বোঝা যাবে না শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনের ভাব!
আজ দেখো দূরত্ব বেড়েছে যোগাযোগ নিভেগেছে
মনের ঘরে দারুন শোক,
চোখের কোণে জল ভেসে যায়
প্রাক্তন চাই এ বসন্তে 'তুমি' নয় বরং 'তোর' ভালো হোক!।
সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়
" অনণ্ত দোলা "
স্বপন ভরিছে মমো চন্দ্রানী নয়ানে , কুসুম কানন হেরী চয়ন বৃথা ভ্রমণে ।
কূহেলী বিছাইছে পৃক্তি দূর্বা দুহেলি ঘাসে
শুভ্রপুষ্প যুথিকা- বিথিকা হাসে পিটুলির সাজে।
আমি একা বিচলিত ভ্রমরের পিছু , অন্বেষণে কি বা পাই বুঝিনা তো কিছু ।
পলাশের ফাগুনে অভ্রমাখা আবিরে , শিতল বাতায়ন, সাজে ঘন রং বাহারি কায়া।
চমকে চমকি ঘনশ্যাম একাকি
চাহে কি রাধের ছোঁয়া ।
আসিয়াছে তরুতলে যদি তারে দেখিতে এতটুকু পাই ।
রৌপ্য রশিতে বাঁধা ঘুন্টি গলে চঞ্চল শুভ্র এক গাই । তারই পাশে সে যে দাড়িয়ে হাসে ;
ফুলময় সে ফুলবন মাঝে বংশি বদন ছেলে যমুনার কমল গলে । নানান রঙে রঙ্গিন অবকাশে ।
এ পুণ্যাহ প্রভাতে বাঁশির সুরে গাহিছে কি গান ; দয়ার্ত সে লোচন , খোঁজে সে কোন নিজ জন ,
হেরী তারে যেন নয়ন অণ্তরে দেখা পাই ।
রঙ্গে - রসে রাঙ্গাপ্রাণ , রং দাও অফুরান । আমি ও সেই বাহারে বাহারি হতে চাই ।
শেষে আমি বুঝিলাম বিরহের ব্যথা বৃথা মিছে কেবল চাই ,
শয়নে স্বপ্নে চোখে তোমারে শুধুই দেখিবারে পাই ।
মনে রাখবেন
লেখা ছাপানোর জন্য সংগঠন কোন রকম টাকা পয়সা ধার্য্য করা হয় না। সংগঠন কখনো কাউকে পার্সোনাল ফোন করে তার পারসোনাল ডিটেইলস বা অন্য কোন রকম তথ্য জানার জন্য ফোন করে না।
আপনারও যদি লেখার প্রতি ভালোবাসা ও উৎসাহিত থাকেন আর মনে করছেন আপনিও website লেখা দেবেন। তাহলে পাঠাতে পারেন আপনার কবিতা পরিচয়সহ আমাদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার গুলিতে- 73191 42341,9126929344,
বাংলা ছাড়াও অন্যান্য ভাষাতেও কবিতা বা গল্প ছাপানো যাবে(Other languages will be printed)
Declaration-The author is solely responsible for the copyright of any person.
Declaration-সংগঠনের অনুমতি ছাড়া কোন লেখা বা ছবি কপি করা যাবে না। কোন কপি প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Post a Comment