Poems in Bengali by Alipurduar Pather Sathi


"সাহিত্যের প্রধান লক্ষণ হল মানবজীবনের সম্পর্ক। যেখানে আমাদের বুদ্ধি, প্রবৃত্তি এবং রুচি সম্মিলিতভাবে কাজ করে আর এর থেকেই সাহিত্যের জন্মলাভ । বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের চিন্তার প্রকাশ  পায়। সেই চিন্তাশক্তির ভাষাগুলি রূপ নেয় বিজ্ঞান, দর্শন , সাহিত্য প্রভৃতি। পর্যবেক্ষণকারী মানুষেরা বিজ্ঞান রচনা করে, চিন্তাশীল মানুুষেরা দর্শন রচনা করে, এবং সমগ্র মানুষটি সাহিত্য রচনা করে।"            


"সাহিত্য রচনা তে আমরা যেমন আনন্দিত অনুভব করি তেমনি পরিবেশ ও মানুষজনকে নিজের আপনজন বলে মনে করি।"










   রক্ত 

রক্ত ভীষণ মূল্যবান 
আর্ত জনের বাঁচায় প্রাণ 
পূণ্য যদি করতে চান 
 করুন তবে রক্তদান ।

 রক্ত দিতে জাগাও বোধ
 অকাল মৃত্যু করো রোধ 
 হয়না ক্ষতি রক্তদা নে  
 এই কথাটি সবাই জানে । 

সবাই করো রক্তদান 
 হোক কান্নার অবসান । 
 ধর্ম জাতি বিভেদ ভো লো
 রক্তদানের আওয়াজ তোলো ।

রক্ত দেবে করো পণ , 
সার্থক হবে মানব জীবন।।
                        ড: সঞ্চিতা দাস চাকী
                        আলিপুরদুয়ার









নামহীন কবিতারা

সাদা ক্যানভাস কত ছায়া রঙের খেলা ।
ফেলে আসা দিন ছেড়ে যাওয়া প্রিয়জন ।
ঊষাজল গড়িয়ে মিশতে থাকে ,
এখানে পড়ন্ত রোদ বিষন্ন সময় ।
অনুভবের দৃশ্যে অস্ফুটিত পল্লব 
ছবিতে দিইনি মালা, সুরভিত জুই ।
রঙ মাখা নীলাভ কৃত্রিম --
বিরামচিহ্নহীন , আদি-অন্তহীন ডাক 
প্রগাঢ় উৎসমুখ আদিগন্ত চাওয়া -।

                 অঞ্জনা দেবনাথ 
                  আলিপুরদুয়ার










মধু বসন্ত

ওরে ~
ওরে ওই মেয়ে
তুই আছিস কেন উদাস হয়ে 
চেয়ে! 

দ্যাখ~
দ্যাখ তৈরি হচ্ছে
এই প্রকৃতি যৌবনের বান বুকে
নিয়ে! 

আগুন~
জ্বালবে আগুন বুঝি
শিমুল, পলাশ, মাদার, কৃষ্ণচূড়া
ওই আকাশে! 

ওঠ~
ওঠ রে এবার
সময় হলো তৈরি হবার
থাকিস না আর বসে! 

কুহু~
গাইবে কোকিল কুহু
আম গাছের ওই মাথায়
যেথায় মুকুল উঁকি দ্যায়! 

ভ্রমর~
ভ্রমর করবে যে গুনগুন
আমলকি র ওই গাছে
খানিকটা মধুর আশায়!

ওঠ~
ওঠ রে এবার তুই
দেখ রে আঁখি তুলে
চোখে কেন তোর আষাঢ়!

এবার~
এবার ভরসায় বাঁধ হৃদয়
সাহস কর সঞ্চয়
ব ইবে বসন্তে বাহার!

                    আরতি ধর
                    অরুণাচল প্রদেশ










আমি 

আমি শান্ত আমি ধীর 
আমি গতির , আমি প্রকৃতির ||
আমি মুক্তো বিহঙ্গের  এক জীব , 
সেই জীব যা অমলিন 
আমি  এই সৃষ্টির একটি ধূলিকণা মাত্র || 
   
  শ্রেয়সী চ্যাটাজী        
শিলিগুড়ি
               














রূপাঞ্জনা,আমার কল্পনা


রূপাঞ্জনা, তোমাকে দেখেছি আমি কল্পনায়..
প্রকৃতির মাঝে  তোমাকে খুঁজি মনের আল্পনায়।
হৃদয়ের গভীরে তোমার চলাচল থাকবে চিরকাল
আমার প্রাণের প্রদীপ জ্বলবে তোমার ছোঁয়ায়।

মনে হয় তুমি যেন পূর্ণিমা রাতে  চাঁদের আলো
সারা রাত ভিজবে আমার মন  স্নিগ্ধ  জ্যোৎস্নায়,
কখনও মনে হয় তুমি  উত্তরের বিশাল হিমালয়
রোদে ঘেমে এসে  থাকবো  বসে শীতল ছায়ায়।

মনে হয় তুমি যেন পাহাড়ি  নদীর শীতল জল 
আমার সমস্ত পাপ ধুঁয়ে মুছে  সাফ যেন হয়
কখনও মনে হয় তুমি ডুয়ার্সের সবুজ হিজল  বন
 একান্তে তোমার সাথে কাটবে কত অলস সময় ।

মনে হয় তুমি যেন বরফ ঢাকা পাহাড়ের চূড়া
আমার দুটি আঁখি মেলে তোমাকে করবো নিরীক্ষণ,
নতুবা মনে হয় তুমি শরতের  হিমেল  বাতাস 
তোমার  পরশ  লাগবে আমার গায়ে সারাক্ষণ।

মনে হয় তুমি যেন শস্যশ্যামলা অপরূপ বসুন্ধরা
আমি যেথায় থাকিনা কেন থাকবো  তোমার বুকে,
কখনও মনে হয় তুমি  ফুলশয্যার নরম বিছানা
তোমার দেহের গন্ধ নিয়ে আমি থাকবো সুখে।
                     দীনেশ বিশ্বাস
                      আলিপুরদুয়ার













জানো সুভাষচন্দ্র 


জানো হে সুভাষ,জানো বিবেকানন্দ;
তোমার দেশে শাসক বড়োই অকল‍্যানকর।
খুঁজে শুধু গুছাতে অমৃত সরোবর,
কুবুদ্ধি সম্পূর্ণ তাদের বিবেক ও অন্তর।

ধর্ম বিদ্বষ ঘটাই তারা গ্রাম হতে শহর,
যে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী তারাই দেশদ্রোহী।
তাদের বিন‍্যাস করতে,করে কত ফন্দীফন্দর,
অমঙ্গলময়ী তারা,সর্বনাসে প্রখর নজর।

অমৃত বলে খাওয়ায়,জনতারে বিষ নাকি জহর;
চলছে তাদের রাজ দেশ হতে দেশান্তর।
তাদের চাবুক ঘুরছে দূর্গম তেপান্তর,
তাদের ভয়ে কাঁপছে একশতত্রিশ কোটির অন্তর।

জানো সুভাষ; কাঁদিছে তোমার ভারতমাতা,
জানো আজ সম্প্রীতিহীন ভারতের জনতা।
জানো, বিবেকানন্দ জানো;তোমার দেশের ইতিহাস -
ধর্ম বিদ্বেষে চলছে গুলি,পড়ছে লাসের ওপর লাস।

তোমার ভারতের উপর নাই বিশ্বের বিশ্বাস,
একশতত্রিশ কোটি ভারতবাসি ফেলিছে দীর্ঘশ্বাস।
বলতে পারো সুভাষ তোমার স্বপ্নের ইন্ডিয়ান,
আমরা ভারতী,তবু ভারতী করতে হবে প্রমান।
ফরিজুল ইসলাম
মুর্শিদাবাদ
সনেট পাবলিকেশন এর সঙ্গে যুক্ত এবং মুক্তি সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত।












তার চেয়ে বরং 


ভালোবাসায় মড়ক লেগেছে
                                কারফিউ বুক জুড়ে
যৌনতার অপ-রুপ আয়োজন
                                শহরতলি হয়ে গ্রামে।
চেনা মুখগুলোই গোগ্রাসে গিলে নেয় সম্ভ্রম
অচেনা চোখের আর কি দোষ!

অর্ধনগ্ন আগুনে পোড়া নারীদেহ
পথেরধারে ঝোপের আড়ালে ব্রিজের নীচে
পড়ে থাকে
থাকুক...  ...
আমার ঘর তো সুরক্ষিত!! আগুন  লাগেনি তো !!

হায়! কাঁচের ঘরে বাস করে
অন্যের চালে ঢিল দেখে সুখে থাকি!! 

তুই তো মা, মরে গিয়ে বেঁচে গেলি!
জিন্দা-মুর্দা এ সমাজের কি হবে?
আগামীকাল আবার নতুন কে পুড়বে?
মোমবাতি মিছিল হবে তো? রাজনৈতিক তরজা!
পথসভা! শোকযাত্রা! আরো কত কি?

তার চেয়ে বরং বাঁশ গুঁজে নিন পেছনে...  .


PRANAB KUMAR KUNDU
 MALDA











প্রতীক আমার

          

নির্দিধায় ছুড়ে ফেল প্রতীক আমার 
নিজেই নিজের শব তুলে নেই কাঁধে
চিতায় অগ্নি সংযোগ করি আমি।
জ্বলন্ত চিতায় পোড়ে আমার আত্মা 
আমার প্রতীক মহাশূন্যে 
তুমি ছুঁড়ে ফেল প্রতীক আমার
আমি শব তুলে নেই কাঁধে।

                    কল্যাণ হোড় 
                    আলিপুরদুয়ার








আপনাদের সকলের ভালোবাসায় এবং প্রচেষ্টায় আলিপুরদুয়ার পথের সাথী
 এগিয়ে চলেছে । আপনারা খুব সুন্দর সুন্দর লেখনী পোস্ট করে চলেছেন , আমরা ধন্য । এভাবেই এগিয়ে চলুক আমাদের সকলের প্রিয়  আলিপুরদুয়ার পথের 
সাথী ।

Note-বাংলা ছাড়াও অন্যান্য ভাষাতেও কবিতা বা গল্প ছাপানো যাবে(Other languages ​​will be printed)


মনে রাখবেন

লেখা ছাপানোর জন্য সংগঠন কোন রকম টাকা পয়সা ধার্য করে না। সংগঠন কখনো কাউকে পার্সোনাল ফোন করে তার পারসোনাল ডিটেইলস বা অন্য কোন রকম তথ্য জানার জন্য ফোন করে না।



Declaration-The author is solely responsible for the copyright of any person.

আপনারও যদি লেখার প্রতি ভালোবাসা ও উৎসাহিত থাকেন আর মনে করছেন আপনিও website লেখা দেবেন। তাহলে পাঠাতে পারেন আপনার কবিতা পরিচয়সহ পরিচয়সহ আমাদের দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার গুলিতে-   73191 42341,9126929344,



Note-সংগঠনের অনুমতি ছাড়া কোন লেখা বা ছবি কপি করা যাবে না। কোন কপি প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Comments

  1. তার চেয়ে বরং, কবিতাটি প্রকাশিত হওয়াতে উৎসাহ পেলাম। বাকী কবিতাগুলি পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।- প্রনব রুদ্র।

    ReplyDelete
  2. খুব ভালো লাগলো, সমস্ত কলম সাথী কে ফাগুনের রঙিন শুভেচ্ছা পাঠালাম,, ,আরতি

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

Spring Festival Poem in Bengali(বসন্ত উৎসব)2020